
পালানো হল না! অভিষেকের বিদেশ যাত্রার ওপর হাইকোর্টের কঠোর রুক্ষ
হাইকোর্টের রায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশি চোখের চিকিৎসা ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আদালত রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে রায় দিয়েছে।
কলকাতার হাইকোর্টের আজকের রায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশী চোখের চিকিৎসা ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আদালত রোগীর স্বাস্থ্যের প্রয়োজন স্বীকার করলেও, রোগীর রাজনৈতিক দায়িত্বকে অগ্রগণ্য করে অবৈধভাবে বিদেশে পালানোর চেষ্টাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। হাইকোর্টের বিচারপতি শ্রীমতী রমেশ্বরী মিত্রের বক্তব্যে বলা হয়েছে, "সদস্যের দায়িত্ব হল দেশের সেবা, স্বার্থপরতা নয়; বিদেশে অকাল রওনা হলে সুনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।"
অভিষেকের দল দাবি করে যে চিকিৎসা জরুরি, তবে আদালত এই যুক্তি অগ্রাহ্য করে, কারণ সংশ্লিষ্ট বিভাগে ইতিমধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনুমোদন পত্র ও বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যবস্থা অনুপস্থিত। আদালত রায়ে নির্দেশ দিয়েছে, যে কোন বিদেশী ভ্রমণ পূর্বে হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না, নইলে শাস্তি কঠোর হবে। এই রায়ে অভিষেকের রাজনৈতিক উত্থান ও গৃহস্থালী সমর্থকগণ বিস্ময় প্রকাশ করে থাকলেও, হাইকোর্টের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের পর অবিলম্বে অভিষেকের সেক্রেটারি-সাধারণকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আদালতে জমা দিতে নির্দেশ করা হয়েছে। তাছাড়া, হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ আছে যে কোনো অবৈধ ভ্রমণ চেষ্টায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যার মধ্যে শাস্তি ও দায়বদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়ে দিচ্ছেন, এই রায়ে রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
পরিণতিতে, হাইকোর্টের রায় অভিষেকের বিদেশি চিকিৎসা ভ্রমণকে দমন করে না, বরং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলার আহ্বান জানায়। এটি শুধু একক ব্যক্তির নয়, সব রাজনীতিবিদকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে জনসেবা ও আইনের প্রতি সম্মান সর্বোচ্চ। তাই, এই রায়ের প্রয়োগে রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়।



